ইন্টারনেট কী এবং এর ইতিহাস

Computer Science - ইন্টারনেট টেকনোলজিস (Internet Technologies) - ইন্টারনেটের ভূমিকা (Introduction to the Internet)
838

ইন্টারনেট কী?

ইন্টারনেট একটি বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা যা বিভিন্ন কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত। এই নেটওয়ার্কগুলো TCP/IP প্রোটোকলের মাধ্যমে একে অপরের সাথে সংযুক্ত থাকে, যা ডেটা স্থানান্তর ও যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা ওয়েব পেজ ব্রাউজ করতে, ইমেইল পাঠাতে, ভিডিও কল করতে এবং বিভিন্ন ধরণের তথ্য ও সংস্থান সহজেই ভাগাভাগি করতে পারি। ইন্টারনেট আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ ও গতিশীল করেছে, যা ব্যবসা, শিক্ষা, এবং সামাজিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলছে।


ইন্টারনেটের ইতিহাস

ইন্টারনেটের ইতিহাস একটি দীর্ঘ এবং প্রগতিশীল প্রক্রিয়া। এর শুরুটা ছিল একটি সামরিক প্রকল্প হিসেবে, যা পরে বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ ব্যবস্থায় রূপ নেয়।

  • প্রাথমিক ধারণা (১৯৬০-এর দশক):
    • ১৯৬০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্ট এজেন্সি (DARPA) এর মাধ্যমে ইন্টারনেটের ধারণা উঠে আসে। এর মূল লক্ষ্য ছিলো বিভিন্ন কম্পিউটার সিস্টেমকে সংযুক্ত করা, যা তথ্য ও ডেটা নিরাপদে আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।
  • ARPANET (১৯৬৯):
    • ১৯৬৯ সালে ARPANET নামে প্রথম ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক চালু হয়। এটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জন্য তৈরি করা হয়েছিল এবং চারটি প্রধান প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছিলো: UCLA, Stanford, UC Santa Barbara, এবং University of Utah। ARPANET ইন্টারনেটের মূল ভিত্তি স্থাপন করে।
  • ইন্টারনেট প্রোটোকল (TCP/IP) (১৯৭০-এর দশক):
    • ১৯৭০-এর দশকে ভিন্টন স্যারফ এবং রবার্ট কান TCP/IP প্রোটোকল তৈরি করেন, যা আধুনিক ইন্টারনেটের ভিত্তি। এই প্রোটোকল ইন্টারনেটের বিভিন্ন নেটওয়ার্ককে একসঙ্গে যুক্ত করার জন্য ব্যবহার করা হয়। TCP/IP প্রোটোকল ইন্টারনেট যোগাযোগকে আরও দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য করে তোলে।
  • ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW) (১৯৮৯):
    • ১৯৮৯ সালে টিম বার্নার্স-লি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW) উদ্ভাবন করেন। WWW ইন্টারনেট ব্যবহারকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজ করে তোলে, যেখানে হাইপারলিঙ্কের মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েব পেজে প্রবেশ করা যায়। এটি ইন্টারনেটকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করে তোলে।
  • ১৯৯০-এর দশকে ইন্টারনেটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি:
    • ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইন্টারনেট বাণিজ্যিকভাবে উন্মুক্ত হয়ে যায় এবং বিভিন্ন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (ISP) এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ইন্টারনেটে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। ওয়েব ব্রাউজারের আবির্ভাবের সাথে ইন্টারনেটের জনপ্রিয়তা ক্রমবর্ধমান হতে থাকে এবং এটি সাধারণ মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
  • ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রসার (২০০০-এর দশক):
    • ২০০০-এর দশকে ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রসার ঘটে এবং বিভিন্ন ই-কমার্স ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এটি একটি বৃহৎ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। এই সময়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ও ওয়াইফাইয়ের উন্নতির মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার আরও সহজ এবং দ্রুততর হয়।
  • মোবাইল ইন্টারনেট ও ক্লাউড কম্পিউটিং (২০১০-এর দশক):
    • ২০১০-এর দশকে মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। স্মার্টফোন এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মানুষ যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় ইন্টারনেট অ্যাক্সেস করতে পারে। এ ছাড়া, ক্লাউড কম্পিউটিং ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংরক্ষিত ডেটা এবং অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে।
  • বর্তমান সময় (২০২০-এর দশক):
    • বর্তমানে ইন্টারনেট আরও শক্তিশালী এবং উন্নত হয়েছে, যেখানে ৫জি নেটওয়ার্ক, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, এবং IoT (Internet of Things) প্রযুক্তির মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের নতুন নতুন পথ তৈরি হয়েছে। ইন্টারনেট এখন শুধু একটি যোগাযোগ মাধ্যম নয়, বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এর প্রভাব রয়েছে।

সারসংক্ষেপ

ইন্টারনেটের আবির্ভাব এবং বিবর্তন প্রযুক্তির জগতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন সৃষ্টি করেছে। এটি বিভিন্ন ক্ষেত্রের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের একটি অগ্রদূত হিসেবে কাজ করছে এবং বিশ্বকে সংযুক্ত করেছে। ইন্টারনেটের ইতিহাস প্রমাণ করে যে, এটি সময়ের সাথে সাথে আরও শক্তিশালী, দ্রুত এবং প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে, যা ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির প্রবাহকে বাড়াবে।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...